Practical Book of Life
Persona
মন্ত্র
Practical Book of Life
Every men must answer for
his actions to Allah.
|
Sergeant Md
Abdul Goffur, ASC Your Own
Class Room |
Bangla-English |
Persona মন্ত্র
Practical Book of Life
Publisher:
M A Goffur, ASC (MAG)
নিজের সম্ভাবনাকে উচ্চতম শিখরে
পৌছানোর জন্য--------------------
Persona মন্ত্র
এই বইটিকে কি ভাবে ব্যবহার করবেন
§ এই বইটি শুধু পড়বার জন্য নয়, পড়ে জীবনে প্রয়োগ করার জন্য
।
§ এক সময় একটি মাত্র অধ্যায় পড়ে তার যথেষ্ট ব্যবহার
করুন–এবং বন্ধুদের সাথে এ বিষয়ে চর্চা করুন ।
§ এই বই–এর কিনারে (Margin) খালি জায়গায় দেওয়া আছে তাতে আপনার অনুভব লিখুন । আপনার অনুভব নিজেকে
বোঝার কাজে আসবে ।
এমন কোন অংশ যে মহাসাগর হতে পারে না––––
আল্লাহ আমাদের মধ্যে প্রত্যেক ব্যক্তিকে আলাদা আলাদা
প্রতিভা বা গুন দিয়ে পাঠিয়েছেন । কিন্তু এটাও একটি কটুসত্য যে প্রতিটি মানুষ সেই
প্রতিভার জোরে সফলতার চরম সিঁড়ি দিয়ে উঠতে পারে না । প্রকৃতির দেওয়া এই প্রতিভার
বিকাশ করে তাকে অংকুরিত করে ফুল–পল্লব দিয়ে সাজিয়ে তুলতে এবং তাকে সঠিক উপস্হাপনা
করাটাই সফলতার মূলমন্ত্র ।
এই জগতে ভাল
হওয়া–টাই শুধু পর্যাপ্ত নয়, দরকার হল আপনি যতটা ভাল সেটা যথার্থই সকলে যাতে দেখতে
পায় । যদি আপনি চান যে, আপনার গুন অনুযায়ী আপনার নাম, প্রতিষ্ঠা, অর্থ, সুবিধা এবং
সুযোগ ইত্যাদি প্রাপ্তি হোক, তার জন্য আপনাকে অনেক প্রভাবশালী হতে হবে ।
কিন্তু কি ভাবে ?
|
এই বই–এর বিষয়বস্তু হল কি করে
আপনার ভবিষ্যৎকে আরো শক্তিশালী বানানো যায় । এই বই শুধুমাত্র ভাল ভাল
মুল্যবান কথা এবং সিদ্ধান্তের ভান্ডার নয় । এতে দৈনন্দিন জীবনকে আরো অধিক
প্রভাবশালী এবং ব্যবহারিক কি ক’রে বানানো যায় তারই বাস্তবিক সংগ্রহ এবং পৃথিবীর
সফলতম ব্যক্তিদের অনুভবের ছবিগুলো আপনাদের জন্য নির্বাচন করা হ’য়েছে । আপনি এটা মানুন এবং জেনে
রাখুন কি আপনি একজন অপার সম্ভাবনাপূর্ণ ব্যক্তি, যাকে সকলেই অল্প সময়ে জানতে
পারবে । সেনানী করো প্রয়াণ অভয় ভবিষ্যৎ ইতিহাস তোমারই এই নক্ষত্রগুলি অমবস্যায় থাকে না সারা আকাশ তোমারই–––––– শুভেচ্ছা সহ এম এ জি |
|
Personality Means What?
|
The integrated organization of all the
psychological, intellectual, emotional and physical characteristics of an
individual especially as they are presented to other people. -Chambers Dictionary |
|
আপনার মনের বিচার অনুসারে আপনার
পরিধানের কাপড়, আপনার ভাবভংগিমা (Body Language) কথাবার্তার ধরণ, ভাষার ব্যবহার, ওঠা–বসা ব্যবহারের ধরণ ইত্যাদি সবকিছু
মিলিয়ে আপনার ব্যক্তিত্বের তৈরী । এইসব বিষয়ের উপর বিশেষ নজর
রেখে, এদের আরো প্ররিশ্রুত ক’রে আপনি যদি চান তবে আপনার ব্যক্তিত্বকে আরো
প্রভাবশালী বানাতে পারেন––সম্পূর্ণরুপে বদলে ফেলতে পারেন কিন্তু কি ভাবে ? আসুন জানি–––––– |
আপনার পরিচয়
এ জীবন একটা রাস্তামাত্র নয়
এতে দুটো রাস্তা আছে
প্রথম রাস্তা অনেক সহজ
এই রাস্তায় কোন মোড় নেই
এ রাস্তা পৃথিবী থেকে আলাদা নয়
দ্বিতীয় রাস্তা খুবই কঠিন
এ–রাস্তার উপর প্রখর রৌদ্র
কোন ছায়া নেই
কেউ আপনাকে সহনুভুতির ভিক্ষা দেবে
এ রাস্তায় এমন কোন গ্রাম নেই ।
তুমি এই রাস্তা দিয়েই যেও
আমি জানি এ রাস্তা খুব সহজ নয়
কিন্তু আমার দুঃখ হয়
কোন––––––
তুমি এখনও নিজেকে চিনতে পারলে না ।
–জাবেদ আখতার
তরকশ –এর সৌজন্যে
|
আসুন
প্রথমে নিজেকে জেনে নিন আপনার পরিচয় সর্বপ্রথম
এটা জানা আবশ্যক কি বর্তমানে আপনার ব্যক্তিত্ব কি রকম? এতে কি কি গুন এবং কি কি
দোষ আছে । আপনার ব্যক্তিত্বের কি সম্ভাবনা আছে এবং এমন কোন কোন পরীক্ষা আছে যার
জন্য নিজেকে তৈরী করতে হবে । আপনার নিজের পরিচয়ের জন্য আপনাদেক Swot
Analysis (স্বট এনালিসিস ) করতে হবে । আসুন প্রথমে জানি, SWOT এর
অর্থ কি ? S - Strength - আপনার শক্তি W - Weekness
- আপনার দুর্বলতা O - Opportunity - আপনার
সম্ভাবনা |
|
|
SWOT Analysis SWOT-এর বিশ্লেষণ (Analysis) এক অন্তর্রাষ্ট্রীয় মানক
পদ্ধতি যা যে কোন কাজে (Project) সফল–হবার জন্য প্রয়োগ
করলে, SWOT এর পরিণাম ভাল হবে । |
|
আমার শক্তি নিচে বর্ণিত স্হানে লিখুন আপনার জীবনের
শক্তিশালী বিন্দুগুলি কি– যে রকম– আমি ভাল বাংলা জানি––––– আমি সকলের সাথে মিশতে
জানি–––– আমি সকলের কথা বুঝি–––– আমি মানুষের শরিরী ভাষা বুঝি
––– আমি মানুষের গতি বুঝি––– আমি বিভিন্ন ভাষার সাংকেতিক
চিহু বুঝি–– আমি সঠিকভাবে মানুষকে বুঝাতে
পারি– আমি নিজ ভাষায় সবাইকে বুঝাতে
সক্ষম– আমি বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের
ভাষা বুঝি– আমি বহির্দেশের মানুষের ভাষা
বুঝি– আমি মানুষের মনের ভাব বুঝি– |
STRENGTHS Enable
you to put your best foot forward. |
আমার দুর্বলতা যে রকম– আমি তাড়াতাড়ি কথা বলতে গেলে লাইন ছুটে যাই––––– আমি আস্তে আস্তে কথা বলি––– আমি সময় সম্বন্ধে পাক্কা নই––– আমি মানুষের সাথে অযথা সময় ব্যয় করি– |
WEAKNESSES Who does n’t have them? You
do something to correct them only when you recognise them. |
|
আমার সম্ভাবনা যে রকম– –আমি যদি ইংরেজী বলতে শিখে
নিই তো লোকদের প্রভাবিত (Influence)
করতে পারব । –আমি যদি নেতৃত্বের গুণ
বিকশিত করতে পারি তবে আমার বন্ধুদের একটি ভাল দল বানাতে পারি । –আমি যদি পেশাগত কাজে মনোযোগ
দিই তাহলে আমি সংগঠক হতে পারি । –আমি যদি সময় কাজে লাগাই
তাহলে আমি একজন ভাল উদ্যোক্তা হতে পারি । –আমি যে কোন প্রতিষ্ঠানের
প্রাতিষ্ঠানিক হিসাবনিকাশে অত্যান্ত পাক্কা । –আমি যে কোন কাজে কষ্ঠ
সহিঞ্চু । –আমি ধীর মস্তিস্কে যে কোন
কাজ সঠিকভাবে করতে পরিপক্ক । –আমি ভাল ব্যবহার দ্বারা
মানুষের মন জয় করতে পারি । –আমি কাজের মাধ্যমে সকলকে
আকর্ষিত করতে পারি । |
OPPORTUNITIES Are a plenty even in
adiversity. Only one has to evaluate them for what they are. |
|
আমার আশংকা আমার সাথীরা আমার থেকে বেশী সময় পর্যন্ত কাজে লেগে থাকে । আজকের বাজারে কম্পিউটার এর নতুন নতুন খোঁজ দ্রুতগতিতে বিকশিত হচ্ছে । সোসাল মিডিয়ার কারণে অল্প শিক্ষিত এবং স্বশিক্ষিত ব্যক্তিবর্গ সামাজিকতা
বিবর্জিত কাজে জড়িয়ে পরছে । |
THREATS Are like ticking time bombs.
Defuse them by anticipatinig and taking preventive actions in time. |
|
স্বট–এর বিশ্লেষণ এবং ব্যবহার সর্বপ্রথমে নিজের স্বপ্নের
(Vision) নির্ধারণ করুন, তারপর
ব্যক্তিত্বকে ঠিক সেইভাবে SWOT
Analysis দ্বারা
বিশ্লেষণ করুন । এতে আপনি জানতে পারবেন আপনার ব্যক্তিত্বের ভাল দিকগুলো কি । যাদের সংরক্ষণ করতে হবে এবং আপনার অবগুণ যেগুলোকে দূর করতে
হবে । এরই সাথে আপনার নিজের সম্ভাবনাগুলোর খোঁজ ক’রে, আসন্ন বিভিন্ন আশংকার জন্য
সঠিক রণনীতির নির্ধারণ করতে হবে । এই পদ্ধতির কিছু সময়ের
ব্যবধানে ব্যবহার করে দেখতে হবে । এতে ব্যক্তিত্বের মধ্যে নিজের থেকেই পরিবর্তন
আসবে এবং নিজেকে চিনতে এবং বূঝতে পারবেন এবং আপনার লক্ষ্যপ্রাপ্তির জন্য তৈরী
হতে পারবেন । সর্বপ্রথমে আপনি আপনার আসল
শক্তির উৎস এবং সমভাবনাদের বুঝুন । এই গুণগুলির উপর নির্ভর করেই আপনাকে আপনার লক্ষ্যের নির্ধারণ
করতে হবে । আপনার দূর্বলতার লক্ষণগুলো চিহ্নিত ক’রে ওদের সরিয়ে ফেলার জন্য
দৃঢ়নিশ্চয় হয়ে যান । যেমন, যদি আপনি সময়ের সদ্উপযোগ না থাকেন তাহলে Time management শিখুন । ইংরেজীতে আপনি
শিখছেন–ই । আপনি যাতে ঘাবড়ে না যান তার জন্য মনস্তত্ববিদের সাহায্য নিন এবং
আসন্ন আশংকাকে মনে রেখে সুনিয়োজিত ভাবে কাজ শুরু করুন –সফল নিশ্চয়ই হবেন । |
|
দৃষ্টিভংগী একটি বিল্ডিং তৈরী হচ্ছিল ।
তিনজন শ্রমিক রৌদ্রে বসে পাথর ভাংতেছিল । একজন পথিক সেই স্হান দিয়ে যাচ্ছিল । সে
জিগ্গাসা করল, আরে ভাই –তোমরা কি করছ ? প্রথম শ্রমিক একটু ক্ষুন্নমনে জবাব দিল
–দেখছ না, পাথর ভাংছি । সে কোন অন্যায় উত্তর দেয়নি । জবাব দেবার পর আবার উদাস
মনে পাথর ভাংতে থাকল । দ্বিতীয় শ্রমিক
জবাব দিল –পয়সা উপার্জন করছি ভাই । সেও ঠিক উত্তর দিল । কিন্তু যে বেশী
সুখী বা দুঃখী মনে হচ্ছিল না–ও নিজের উপার্জনের জন্য কাজ করছিলো । তৃতীয় শ্রমিক গান করতে করতে পাথর ভাংতেছিল । ওকে জিগ্গাসা করলেও গান
বন্ধ করে বলল– আমি বিল্ডিং বানাচ্ছি–তবে ওর চোখের দৃষ্টির মধ্যে একটা চমক ছিল আর ও
আনন্দে ও উৎসাহে ভরা ছিল । সত্যি বিল্ডিং বানানো তো সৌভাগ্য কথা । জীবনের জন্যও আমাদের এই তিন রকম উত্তর হতে এর মধ্যে আপনি কোন চিন্তার
নির্ধারণ করছেন তা আপনার উপরই নির্ভর করছে । জীবনতো একপ্রকার শুধুমাত্র
দৃষ্টিভংগীর পরিবর্তনে সবকিছু বদলে যেতে পারে– ফুল কাটা হতে পারে অথবা কাঁটা
ফুলে পরিণত হতে পারে । |
|
|
কারো সাথে দেখা করতে হলে §
সম্ভব
হলে আগে ফোনে সূচনা দিয়ে দিন । §
ঘরে
ঢোকবার আগে ভদ্রতার খাতিরে কার্ড পাঠিয়ে দেখা করার অনুমতি নিন । §
ঠিক
সময়ে পৌছান । §
দেখা
করার পর হাসিমুখে অভিবাদন করুন । §
সকালে
খুব তাড়তাড়ি অথবা অধিক রাত্রে কারো ঘরে
যাবেন না । §
অন্যের
ঘরের ফোন জিনিষ ব্যবহার করবেন না–যেমন–ফোন, মোবাইল, রিমোট, মিউজিক্যাল সিস্টেম
ইত্যাদি । |
|
|
কারো বাড়িতে অতিথি হওয়ার পর §
কারো
বাড়িতে থাকতে যাচ্ছেন, যাবার আগে একটা ফর্দ বানিয়ে নিন জরুরী জিনিষপত্র কি কি
সংগে এনেছেন । §
নিজের
ব্যবহারের জিনিষ যেমন–দাঁড়ি কামাবার জিনিষ, টাওয়ালে, সাবান ইত্যাদি অতি অবশ্যই
সাথে নিয়ে যান । §
খাবার
এবং থাকবার ব্যবস্হার জন্য গুনগান করুন । §
ঘর
কিংবা বাথরুম ব্যবহারের পর পরিস্কার এবং ব্যবস্হিত করেই বাইরে আসুন । §
পরিবারের
অন্য সদস্যদের দৈনন্দিন কাজের মধ্যে মতপ্রকাশ করবেন না । §
বেশী
রাত্রে এসে পরিবারের অন্য সদস্যদের অসুবিধা করবেন না । |
|
|
সময় প্রবন্ধন (Time Management) একজন
প্রভাবশালী লোকের সব থেকে বড় গুণ হল সে একজন ভাল প্রবন্ধক(Manager)একজন
ভাল প্রবন্ধক উপলব্ব উপায়কে এমনভাবে ব্যবহার করে কিভাবে ভাল ফল পাওয়া যায় । সময়––––– সময় সব থেকে মূল্যবান উপায় যে এই উপায়কে
ঠিক মতন ব্যবহার করবে সে সফলতা প্রাপ্ত হবে । সময় সকলের জন্য এক সমান উপলব্ব, সে আমেরিকার
রাষ্ট্রপতি হতে পারে অথবা একজন সফল ব্যবসায়ী –যেমন বীলগেট্স অথবা একজন ছোট
মুদির দোকানের ব্যবসায়ী অথবা একজন শিক্ষক । কিন্তু শুধুমাত্র এই সময় প্রবন্ধন–ই
যার সাহায্যে সময়ের উদ্উপযোগের দ্বারা আলাদা আলাদা ব্যক্তির তৈরী হয় । অনেক সময়
লোকেরা ইচ্ছে থাকলেও কোন কোন কাজ সময়মত করতে পারেন না । ফলস্বরুপ– –যোগ্যতার
বিকাশের সুযোগ পায় না । –সম্বন্ধ
খারাপ হতে থাকে । –ব্যক্তিত্বের
উপর খারাপ প্রভাব পড়ে । –আর্থিক
ক্ষতি হবার সম্ভাবনা থাকে । |
|
|
সময়কে ব্যবস্হিত ভাবে ব্যবহার করা যেতে
পারে । এতে আপনার কার্য্যক্ষমতা বাড়বে এবং আপনি নতুন কৌশল শিখবার এবং জ্ঞান
বাড়াবার জন্য নতুন সুযোগ খুঁজতে পারবেন । আপনার নিজের সম্বন্ধ মজবুত হবে এবং
আপনার ব্যক্তিত্ব প্রতিষ্ঠাপন্ন হবে । এর জন্য সময়–প্রবন্ধন কিছু গুণ বা কৌশল
আপনাকে শিখতে হবে এবং তারজন্য অল্পবিস্তর প্রস্ততি প্রয়োজন । § আপনি আপনার নিত্য কাজের সূচী বানান এবং একে
দু–ভাগে ভাগ করুন । এমন সবকাজ যা করা বা না করার সময় পরিবর্তন আপনার হাতে অথবা
এমন সমস্ত কাজ যাদের আপনি অবহেলা করতে পারেন না । |
|
|
|
অনিবার্য্য/অত্যাবশ্যক
কাজ |
ইচ্ছানুসারে
কাজ |
|
|
স্নান । |
ফ্লিম বা টিভি দেখা । |
|
|
বসের সাথে দেখা করা । |
বন্ধুদের সাথে দেখা করা । |
|
|
কোরআন শরীফ পড়া । |
হাদিস পড়া । |
|
|
সকালে শরীর চর্চা করা । |
বিকেলে খেলাধুলা/হাটা । |
|
|
পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় দেয়া । |
বিভিন্ন মনিষীদের জীবনী পড়া । |
|
|
সময়মত খাবার গ্রহণ করা । |
ঋতু অনুযায়ী বিভিন্ন ফলমুল খাওয়া । |
|
|
নিয়মিত সন্তানদের লেখা–পড়ার প্রতি
খেয়াল রাখা । |
আত্মীয়–স্বজন এবং প্রতিবেশীর সাথে
সাক্ষাৎ করা । |
|
|
নিয়মিত সংবাদ দেখা । |
চলতি ঘটনা সম্পর্কে ধারনা রাখা । |
|
|
|
|
|
খালি
জায়গায় আপনার অতি আবশ্যক এবং ইচ্ছানুসারে কাজগুলো লিখুন ।
|
এখানে প্রত্যক্ষ করুন কি আপনার কত সময়
এমন কাজের জন্য অতিবাহিত হচ্ছে যার আবশ্যকতা নেই । অতি আবশ্যক কাজগুলো সর্বপ্রথম
করাবর জন্য রাখুন আর বাকি কাজ সময় পাওয়া গেলে করুন । § কাজ ও সময়ের তালমিল কিছুটা এ–ভাবে করুন । আপনার
কাজ যাই আপনি করতে চাইছেন । প্রথমে একটি কাগজে লিখে ফেলুন । তারপর প্রয়োজন অনুারে সাজান । §
বার্ষিক
কাজ । §
মাসিক
কাজ । §
সাপ্তাহিক
কাজ । §
দৈনন্দিন
কাজ । এমন কোন কোন কাজ যা এ বছরে করতে হবে ।
যেমন–পরিবারের সাথে ঘুরতে যাওয়া, ঘরের মেরামত করা, ধর্মীয় কাজ বিশেষ সমাজের কাজ
। কোন কাজ কোন মাসে করতে হবে তা সুনিশ্চিত করে নিজের ডাইরি লিখে রাখুন । এটা
বার্ষিক কাজের যোজনা । প্রতি মাসে কি কি কাজ করতে হবে যা
আবশ্যক, যেমন–ইলেকট্রিক বিল দেওয়া, মাসিক মুদি দোকানের জিনিস কেনা, রুম ঠিকঠাক
সাজানো, মিটিং ঠিক করা, ছেলে স্কুলে যাওয়া, সামাজিক কারণে কোথাও যাওয়া, পার্লারে
যাওয়া, সবকিছু লিখে রাখুন এবং দিন স্হির করুন । সপ্তাহের কার্য্যসূচীরও এইভাবে বানিয়ে
নিন । যেমন, সব্জী, ফল ইত্যাদি আনা পেট্রল ভরা । এইভাবে প্রতিদিনের কার্য্যেরও
একটি সময়সূচী বানিয়ে নিন । |
|
§
আপনি
সারাদিন কি কি কাজ করেন তার একটি সূচী বানিয়ে নিন এবং হিসাব করে দেখুন কোন কাজ
কত সময় লাগছে । এবার
এইসব কাজের প্রয়োজন অনুসারে কাজে সময় লাগান । সময় দেবার জন্য আপনার কাজের সূচীকে
তিন ভাগে ভাগ করুন– ১। অত্যন্ত জরুরী (Must do) । ২। করা উচিত (Should
do) । ৩। করতে পারেন ভাল (Nice to do) । এইভাবে কার্য্যপ্রণালীকে বিভক্ত করলে
আপনি বুঝতে পারবেন কি কোন কাজ প্রথমে করতে হবে এবং সময়ের অভাবে না করলেও চলবে ।
আপনার পরিকল্পিত তালিকায় প্রত্যেকটি শ্রেণী অনুযায়ী লিখুন এবং রং দ্বারা
প্রাথমিকতার চিহ্ন দিয়ে অংকিত করুন । এ পরিকল্পনা আপনাকে প্রতিদিনের সময়ের
বন্টনে সাহায্য করবে । Don’t say that you don’t have enough tiem. You have exactly the same number of hours per day
what Michelangelo, Mahmatma Gandhi, Bill Gates &
Albert Eienstein had. |
|
ব্যস্ত
লোকদের জন্য উপযোগী উপদেশ– বাড়ি থেকে বেরোবার আগে দেখে নিন– ü
এক–ই
জায়গায় বা তার আশেপাশে কোন কোন কাজ করতে পারেন । ü
এক–ই
দিকে যেতে যেতে কোন কোন কাজ করতে পারেন–যেমন, অফিসে যাবার পথে, বিল ভরতে পারেন,
লন্ড্রীতে কাপড় দিতে পারেন । খাবার বানাবার সময় রান্নাঘরের পরিস্কার এবং
জিনিষপত্র ঠিক করে রাখা । ব্রাশ করার সময় বাথরুম ভালভাবে ঠিকঠাক করা । যে রাস্তা
দিয়ে যাচ্ছেন ঐ রাস্তায় প্রতিদিনের, সপ্তাহের বা মাসের কি কি কাজ করতে হবে,
পরিকল্পনা করে রাখুন । ü
নিজের
কাছে পেন এবং ডাইরি রাখুন এবং প্রতিটি কাজের সূচী তৈরী–যেমন, সব্জী কি কি কিনতে
হবে/বাজারে কি কাজ আছে/কাকে ফোন করতে হবে/কার সাথে দেখা করা দরকার/কাকে কি
নির্দেশ দিতে হবে/প্রতিটি লোকের নাম লিখে তার সাথে তাদের কাজের বিবরণও লিখুন তার
সাথে আপনি যখন দেখা করবেন বা ফোনে কথা বলবেন তখন আপনার ডাইরি দেখে সমস্ত কাজের
ব্যাপারে একই সময়ে কথা বলতে পারেন– ü আমরা কাজের থেকে বেশী সময় চিন্তায় ব্যয় করি– যেমন–সকালে জলখাবার কি বানাবেন, অফিসে কি কাপড়
পরে যাবেন, কোন ড্রেসের সাথে কি গয়না পরবেন, জুতা বা চটি কি পরবেন, খবার কি
বানাবেন । অর্থাৎ কাজ করেত পাঁচ মিনিট এবং চিন্তা করতে কুড়ি মিনিট, এর জন্য একটু
তৈরী থাকুন–এইভাবে । সমস্ত প্যান্ট এবং শার্টের লিস্ট বানিয়ে
নিন এবং ম্যাচিং হিসাবে লিখে রাখুন । একটা প্যান্ট এবং ম্যাচিং হিসাবে তিনটি শার্ট, ১০ টা প্যান্ট
হবে তো ৩০ টা শার্ট তার সাথে ঠিকমতন ক্রমঅনুসারে লিস্ট বানিয়ে নিন আজকে কালো, কালকে নীল, পরশু ব্রাউন
শার্ট এইভাবে । এক মিনিটে কাপড় না হলে তাড়াতাড়িতে যে কাপড় উপরে আছে এবং প্রতি আটদিনে ঐ একই কাপড় পড়তে হবে । পুরানো কাপড় উপরে এইভাবে পড়ে থাকে
প্রতিদিনের, কখনও কখনও বা পার্টির জন্য সব কাপড়েরর
একইভাবে সূচী তৈরী করুন । পার্টিতে পরবার পর কাপড়েরর লিস্ট–এর আগে লিখে রাখুন কবে পরেছিলেন যাতে পুণরাবৃত্তি না হয় । ü
গৃহিনীদের
জন্য– আপনি
কি কি জলখাবার (Breakfast) বানাতে
পারেন লিখে রাখুন । প্রতিদনি একটা নতুন খাবার, বিকেলে জিনিষপত্র তৈরী করে রাখুন বাচ্চারা, খুশি,
স্বামীও খুশি, নাহলে রোজ সেই একই পোহা, উপমা বা স্যান্ডউইচ । কোন
কাজটি কখন করতে হবে, তার জন্য কত মিনিট লাগবে, তার জিনিষপত্র কি কি তৈরী আছে ।
এটা যদি আপনার
জানা থাকে তো আপনি মানসিক থেকে বাঁচতে পারবেন, পর্য্যাপ্ত সময় আপনার কাছে । তাতে
আপনার জীবনও সহজ হয়ে যাবে । |
|
আপনার সপ্তাহের কাজে আলমারী ঠিকঠাক করা, কপড়ের
ফর্দ তৈরী করা, এক মিনিট কাপড় বের করার জন্য, পাঁচ মিনিট স্নানের জন্য, দু মিনিট
কাপড় পরবার জন্য, চার মিনিট ড্রেসিং করার জন্য, দু মিনিটে আপনি তৈরী । এতে
চিন্তার কি আছে, ধীরে ধীরে সকালের চা–পরিবারের সবার সাথে বসে’ গল্প করে কাটিয়ে
সময় মতন উঠুন । বাচ্ছারা তৈরী হবার পর আপনিও তৈরী । ১২ মিননিটে কিচেন জলখাবার
প্রস্তত । তারপর বসুন জলখাবারের (Breakfast) টেবিলে, গল্প করে কিছু সময় কাটান । ü
প্ল্যানার
এবং উপযোগিতা– বাজারে অনেক ভাল ব্যবস্হিত
প্ল্যানার পাওয়া যায় । যদি চান তো আপনি কোন ডাইরিকে প্ল্যানার এর জন্য ব্যবহার করুন । ১। এতে আপনার সন্বন্ধীয় সব যা জানার দরকার
লিখুন । ২। Must
do, should do and nice to do কে
কপিতে লিখুন । ৩। প্রতি সপ্তাহের Must do কাজের
ফর্দ বানান । ৪। প্রতিদিন রাত্রে কি কি
কাজ হয়েছে তাদের সূচী থেকে সরিয়ে ফেলুন । ৫।
আপনার সাথে কাজ করে এমন লোকেদের নামের সাথে, সময় সময় তাদের সাথে প্রয়োজনীয়
কথাবার্তাগুলো লিখন,
যাতে তাদের সাথে কথা বলার সময় বা ফোনে কথা বলার সময় সম্পূর্ণ কথা একবারেই করতে
পারেন । একই লোকের
সাথে বারবার কথা বলতে না হয় । |
|
মন উার রাখুন v ধন্যবাদ/থ্যাংক ইউ বলতে v সরী/ক্ষমা প্রার্থনার সময় v ক্ষমা করতে v প্রশংসা করতে v বন্ধুত্ব করতে v হাসিমুখে থাকতে v সাহায্য করতে v অন্যকে সম্মান করতে v অন্যকে ভালভাবে শুনতে । |
বুঝেসুঝে ব্যবহার করুন v বিদ্যুৎ বা জলের খরচের সময় v কথাবার্তায় কর্কশতা কম করতে v কারোর খুঁত বার করতে v বেশী কথা বলার সময় v নকারাত্মক কথা বলতে v গল্প বা আড্ডা মারার সময় v সময়ের সদ্উপযোগের জন্য v অন্যের কাজে নিজের মত প্রকাশ
না করতে । |
|
|
নিজি সম্বন্ধ (Inter-Personal Relationaship) এখন আমি আপনার পরিবার, পরিচিত,
আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব বা কাজে বা ব্যবসায়ের সাথে জড়িত লোকেদের সাথে নিজি
সম্বন্ধের ব্যাপারে কথা বলব । আপনার এই যোগাযোগ আপনাকে প্রভাবিত Positive Environment করে এবং একই সাথে আপনার ব্যক্তিত্বের বিশেষ পরিচয়ের
সৃষ্টি হয় । ভাল নিজি সম্বন্ধ । (Positive
Environment) –এর তৈরী করে খুশির পরিবেশ
বানায় । ভাল নিজি সম্বন্ধের জন্য সুঝবুঝ, সভানুভূতি, বিশ্বাস এবং সহযোগিতা
ইত্যাদি গুণের প্রয়োজন হয়
। কিন্তু প্রায়ই নিজি সম্বন্ধ খারাপ হবার জন্য আপনার জীবনে
দুঃশ্চিন্তার প্রভাব পড়ে । নিজি সম্বন্ধ ভালো বানিয়ে রাখার জন্য কিছু উপদেশ– Ø
নিজের জবাবদারি স্বীকার করুন এবং অন্যের
জন্য ভাবুন । আমাদের কাজের জায়গায় আমাদের যা দায়িত্বরত আছে
তাকে সম্পূর্ণ করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে । সমস্ত জবাবদারি বা দায়িত্বে কাজ
সঠিক সময় পূরণ করুন । Ø
খুব সাবধানে নিজের শব্দের চয়ন করুন । শব্দের মাধ্যমেই আমরা আমাদের কথা অন্যের কাছে
পৌছাই । আমরা শব্দের কিভাবে ব্যবহার করছি তার সম্বন্ধে সবসময় সাবধান থাকতে হবে । আপনি আপনার কথার দ্বারাই একজন
অতি বন্ধু তৈরী করতে পারেন আবার এই কথার দ্বারাই নিজের শক্রও । কর্কশ শব্দ বা
খারা শব্দের ব্যবহার গভীর আঘাত পৌছায় । এই জন্য সর্বদা শান্তভাবে এবং সম্মানজনক
শব্দের ব্যবহারই আমাদের জন্য সব থেকে ভাল । |
|
Ø
আলোচনা অথবা অভিযোগ করবেন না । আপনার
আত্মীয়স্বজন অথবা পরিচিতির সাথে কথাবার্তায় আলোচনা কম করতে হবে এবং যতটা সম্ভব
বিষয় সমাধানের উপর কথাবার্তা বলা দরকার । Ø
সর্বদা
হাসিখুশি থাকতে হবে । হাসি দ্বারা খুশি ছড়িয়ে পড়ে । এতে আপনার
সৌন্দর্য্যের বৃদ্ধি পায় । হাসিখুশি থাকলে নিজের মন ভাল থাকে । খিচমিচে লোকদের
কিউ পছন্দ করে না । Ø
আপনার
চিন্তাধারা সাকারাত্মক রাখুন । অন্যের
ব্যবহারকে সর্বদা সাকারাত্মক দৃষ্টি দিয়ে দেখুন । Ø
উৎসাহী
বা উদ্যমশীল হোন । কিছু লোক নিজেদের কাজ খুব উৎসাহের সহিত করে
এরকম লোকেদের কাজ করতে যারা দেখেন তাদের মধ্যেও উৎসাহের সঞ্চার হতে থাকে আপনি
নিশ্চয়ই দেখেছেন এরকম ব্যক্তি সবকাজে সফল হয়ে থাকে । Ø
সততার
এবং সত্যের সঠিক প্রশংসা করুন । কাউকে
প্রকৃত প্রশংসা করা সব থেকে বড় উপহার । এই উপহার যে দেয় তার জন্য অত্যন্ত সুলভ
হয় আর যে পায় তার জন্য এটা অত্যন্ত দু–গুণ বেড়ে যায় । সত্যিকারের প্রশংসায় বড়
প্রভাবশালী প্রেরণা থাকে । আপনার পরিচিতদের সত্যকারের প্রশংসা করে দেখুন । আপনার
আত্মসন্বোষ হবে, কিন্ত নিজের এই প্রশংসার বদলে কিছু চাইবেন না । Ø
নিজের
ভুল সত্বর এবং সহজতার সাথে স্বীকার করুন । যখন আমাদের দ্বারা কোন ভুল হয়ে যায় তা অতি
শীঘ্র এবং খুশির সহিত স্বীকার করা উচিত । প্রতিটি মানুষের ভুল স্বীকার করার সাহস
এবং ভুল ঠিক ক’রে নেবার মতন উৎসাহ থাকা উচিত । |
|
Ø
উপকার
করুন । যখন কেউ আপনাকে সাহায্য করবে তখন সেই ব্যক্তির
প্রতি আপনার কৃতজ্ঞতা থাকা উচিত । কিন্ত যখন আপনি কাউকে সাহায্য করবেন তখন তার
জন্য মনে কিছু আশা করবেন না । Ø
আপনার
প্রতিn˦¢aকে সংকল্পে বদলান । আপনার দ্বারা প্রতিশ্রতি পালন করা আপনার দায়িত্ব
এবং তাকে সংকল্প করে পুরণ করুন । Ø
বিশ্বাসী
এবং ভরসার আস্হা অর্জন করুন । একটি
পুরানো কথা ’এক ছটাক বিশ্বাস একসের চালাকি থেকে অনেক ভাল’ –আপনার সহকর্মী বা
সহচর যে খুব চতুর এবং কাজের লোক কিন্ত তাকে ভরসা করা যায় না–এমন ব্যক্তিকে কি
আপনি আপনার সাথে রাখা পছন্দ করবেন? নিশ্চয় নয় । অতএব আপনাকেও বিশ্বাসী হতে হবে
। Ø
ক্ষমা
করুন এবং ভুলে যান । কাউকে ক্ষমা করে দেওয়া একটি মহৎ গুণ । কিন্ত
ক্ষমা করার সাথে সাথে ব্যক্তির দ্বারা করা ভুলকে ভুলে যাওয়াটাই এর থেকে অনেক বহৎ
গুণের কাজ । Ø
লোককে
হাসানোর অভ্যাস করুন এবং খোসমেজাজী বনুন । নিজে হাসিমুখে থাকতে এবং লোককে হাসানোর
অভ্যাস থাকলে আপনি সর্বদা প্রফুল্লিত থাকবেন এবং নিজের অসাফল্যকে হেসে টালতে
পারবেন । হাসিখুশি মেজাদের লোক সবাই পছন্দ করে । এদের ব্যক্তিত্বের একটি আকর্ষণ
থাকে । আল্লাহ্র বড় আর্শিবাদ হল মানুষেরই শুধুমাত্র হাসাবার ক্ষমতা আছে । |
|
আমাদের
সম্বন্ধ এবং আত্মীয়তা একটি ব্যাংকের খাতার মতন । এতে আমরা যতটা জমা করব এবং
ততটাই বাড়বে । পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ততটাই এর থেকে পেতে পারি । যদি জমা না করেই
পাবার চেষ্টা করি তাহলে আমাদের নিরাশ হওয়া ছাড়া উপায় নেই । |
|
ভাব–ভংগিমা (Body Language) আমরা শুধুমাত্র শব্দের দ্বারা কথাবার্তা
বলি না, আওয়াজ না করেই আমরা আমাদের শরীর–এর ভাব এবং ভংগিমা দ্বার াকিছু বলার
চেষ্টা করে থাকি । অনেক সময় এরকম হাব–ভাব শব্দের থেকে অনেক শক্তিশালী হয় । হাব–ভাব(Body Language) ছাড়া মানুষ চলতে পারে না– আমাদের
কথা বার্তার মধ্যে হাব–ভাবের দ্বারা প্রকাশ হয় প্রায় ৫৫% প্রতিশত । আওয়াজ
দ্বারা প্রকাশ হয় প্রায় ৩৮% প্রতিশত । শব্দের
দ্বারা প্রকাশ হয় শুধুমাত্র ৭% প্রতিশত । Body Posture: সব কিছু বলে এখানে Body Posture–এর মানে হল আপনার ওঠা–বসা এবং চলবার সময় শরীরের
ভাব–ভংগিমা । শরীরের হাব–ভাব আপনার ব্যক্তিত্বের আয়না । যদি আপনি কাঁধ নীচু করে
বসেন এবং চোখে চোখ (Eye Contact) রেখে কথা না বলেন তাহলে আপনার স্বল্পতার পরিচয়
পাবে । |
|
যদি আপনি চান নিজেকে আত্মবিশ্বাসপূর্ণ
তাহলে সর্বদা কোমর সোজা করে বসুন এবং যার সাথে কথা বলছেন তার দিকে তাকিয়ে কথা
বলুন–চোখ নীচু করে নয় । হাতের মুদ্রা বা অবস্হা । হাতকে যেভাবে রেখে কথাবার্তার ব্যবহার করে থাকি এর দ্বারা
আপনার খোলা মন বা সংকীর্ণ চিন্তার পরিচয় পেতে পারি । পরিচয়ের প্রথম ক্ষণে আপনার
কিছু কম খোলা মনের পরিচয় স্বাভাবিক ভাবে হতে পারে । কিন্ত খোলা মনে আলাপ–আলোচনা
করার সময় হাতে মধ্যে হাত রেখে কথা বলা সংকীর্ণ মনের পরিচয় । হাতকে স্বাভাবিক
ভাবে রেখে কথা বলুন । দূরে বা পিছনে । আমরা লোকদের সাথে কোনো সমারোহে বা
মিটিং–এ কতটা দূরে বা সামনে দূরত্ব রেখে বসি এর থেকে আমাদের ব্যক্তিত্বের পরিচয়
পাই । কোনো পার্টিতে সকলের সাথে দলের মধ্যে বসে কথাবার্তা বলা–এটা আপনার
আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দেয় এবং আপনাকে জনপ্রিয় বানায় । অপরিচিত পার্টিতে নতুন
লোকের সাথে পরিচয় করে সবার সাথে মিলেমিশে থাকা নিজেকে শক্তিশালী করবে । |
|
Body Language
Guide vদঁড়াবার সময় সোজা দাঁড়ান । vচেয়ারে বসার Posture
ঠিক রাখুন । পিঠকে পিছনে রেখে
হ্যান্ডেলে হাত মুড়ে রাখুন । vসোফায় বসবার সময় পায়ের অবস্হানের বিশেষ লক্ষ্য রাখুন ।
শরীরের আকার কুশনের সাহায্যে আমারপ্রদ এবং আকর্ষক বানিয়ে রাখুন । vযার সাথে কথা বলছেন চোখের দিকে তাকিয়ে মুখের দিকে নজর
রাখুন । vসহজ হাব–ভাব এবং সাধারণ আওয়াজে কথা বলুন । কৃত্রিম
ব্যবস্হা অল্প সময়েই পরিবর্তন হয়ে যায় । আপনার কৃত্রিমতা সামনের ব্যক্তি বুঝতে
পেরে যাবেন । vকথা বলার সময় আপনার কাপড় বা আপনার চুল খুব বেশী ঠিকঠাক
করবেন না । vআপনার আংগুল মুখের উপর বা তার আশেপাশে ঘোরাবেন না । vপেন দিয়ে খেলা, রুমাল মোঁচড়ানো, কোন জিনিষ উপর–নিচ
করা, বেল্টকে নাড়ানো, জুতো দিয়ে জমি ঘষা ইত্যাদি আপনার অস্বস্তি এবং
আত্মবিশ্বাসের দুর্বলতার পরিচয় দেয় । এসব করা উচিত নয় । vহাসিখুশি চেহারা একটি পরিচয় হয়ে যায় । অল্প অল্প হাসিমুখ
এবং চোখের দ্যুতি আপনাকে সবার প্রিয় বানাবে । vএকজন চিনের দার্শনিক অনেক পড়াশুনার পর একটা ফল বার করল
যে একজন ডিক্টেটর বা ডেমোক্র্যটের মধ্যে পার্থক্য কি–পার্থক্য হল ডিক্টেটর চোখ
তুলে, ভুরু কুঁচকিয়ে এবং মুখে হামেশা দম্ভ নিয়ে কথা বলে অন্যদিকে একজন ডেমোক্র্যট
হাসিমুখে শান্তভাবে কথা বলে থাকেন । |
|
v বডি
ল্যাংগুয়েজ সবথেকে বিশেষ কথা হল–হাতের নাড়াচাড়া করা । কথা বলার সময় হাত বন্ধ করে
বসবেন অথবা দাঁড়াবেন না পরন্ত পুরো সময় নাড়াচাড়া করবেন না । ভাল হবে দুটো হাতই
একস্হানে রাখুন যেমন বলবার সময় মাইক ষ্ট্যান্ড–এর উপর/হাতলের উপর/চেয়ারের কুশনের
উপর অথবা নিজের হাঁটুর উপর রাখুন । সময়ে সময়ে নিজের ভাব পরিবর্তন অনুযায়ী এদের
ওঠান বা নাচান কাঠের পুতুলের চালকের মতন যেমনভাবে কাঠের পুতুল উঠিয়ে রাখে এবং
কথাবার্তা বলে এবং নিজের জায়গায় বসিয়ে দেয় ঠিক সেইভাবে হাতকে প্রয়োজন অনুসারে
ঘুরিয়ে–ফিরিয়ে পুরানো জায়গায় নিয়ে আসুন । v কথায় কথায় দু–হাত দিয়ে তালি বাজানো, অন্যের কাঁধের
উপর হাত দিয়ে কথা বলা, কারোর মুখের কাছে হাত নাচানো, আংগুল দেখিয়ে কথা বলা, ঘুসি
উপর–নিচ হাওয়ায় মারা, খুব বেশী ঘাড় ঘুরিয়ে কথা বলা, চোখ মিচকানো ইত্যাদি
অভদ্রতার পরিচায়ক । v কথা বলার সময় জিভ
বাইরে আনবেন না বা বারবার ঠোঁটের উপর ঘোরাবেন না । v ওঠা–বসার সময় শরীরের ভাবভংগী ঠিক রাখুন । এর অভ্যাস
আয়নার সামনে করুন । v উঠে যাবার সময় চেয়ার পিছনের
দিকে ধাক্কা দিয়ে যাওয়া, হাতলের উপর চাপ দেওয়া বা ঝটকা দিয়ে চেয়ার দ্বারা
অভদ্রতার লক্ষণ । v ’চলা’ বডি–ল্যাংগুয়েজের এক প্রদান অংগ । সর্বদা সোজা
চলবার চেষ্টা করুন । চেষ্টা করবার জন্য মাথার উপর তিনটে বই রেখে সোজা চলুন–বই না
ফেলে । এতে আপনার চলবার প্রক্রিয়া ঠিক হয়ে যাবে । v আপনার জুতায় চুঁ–চুঁ বা স্যান্ডেলের খটখট আওয়াজ,
পায়েল বা চুড়ির আওয়াজ, লোকের ধ্যান আকর্ষিত করে । |
|
v টিভি দেখার সময় অথবা কোন বিশেষ লোকের বক্তৃতা শোনার
সময় আপনার ধ্যান ঐ ব্যক্তির উপর কেন্দ্রিত করুন আর দেখুন ঐ ব্যক্তির কোন
বডি–ল্যাংগুয়েজ আপনার ভাল লাগছে অথবা কোন কোন ব্যবহার আপনার ভাল লাগছে না । যে
সব জিনিষ ভাল লাগছে না চিন্তা করুন কি আপনিও তো এই রকম করছেন না এবং যে সমস্ত
ভংগিমা ভাল লাগছে সেগুলো আপনার মধ্যে আনার চেষ্টা করুন । দেখা করা এবং Body
Language Interview–র জন্য তৈরী করা শুধু Academic
work নয় । আপনাকে যখন কোনো সংস্হায় Interview–এর জন্য ডেকে পাঠান হয় এবং বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়ে থাকেন তখন Interview
Board শুধুমাত্র আপনার
জবাবকে শোনেন না, আপনার শীরের বিভিন্ন মুদ্রারও লক্ষ্য ক’রে থাকেন । আসুন ভাল Interview এর জন্য Body Language tips জানুন– v
সাক্ষাৎকার । Interview রুম–এ
প্রবেশ করে প্রথমেই সামনে বসা ব্যক্তির সাথে হাত মেলানো ভাল কথা নয় (ভাল হবে কি
বক্তাকে কথা বলতে দিন) । –হাত
সাধারণভাবে মেলান, খুব জোরে বা হালকা হাতে নয় । –হাত
মেলাবার সময় সামনে তাকিয়ে আপনার নাম বলুন । –সভায়
অন্য লোকদের সাথে হাত মেলাবার জন্য টেবিলের উপর ঝুঁকবেন না । সামনে গিয়ে হাত
মেলান এবং নিজের নাম অবশ্যই বলুন । v
শরীরের মুদ্রা ।
Interview–র সময় আপনার শরীরের ভংগিমা এমন হওয়া দরকার
যার দ্বারা আপনার রুচির পরিচয় পাওয়া যায় কিন্ত আপনার অস্বস্তির প্রকাশ না পায় । |
|
Interview–র সময় চেয়ারের উপর ঠিকভাবে সোজা বসুন ।
চেয়ারে বসে সামনের দিকে অথবা কিছুটা ঘুরে বসে আপনি কথা শোরনার জন্য আপনার ইচ্ছার
প্রকাশ করতে পারেন । v হাত
কি করবেন । অধিকাংশ লোক এ ধরণের ঔপচারিক কথাবার্তায় অস্বস্তি বোধ ক’রে থাকেন যে
হাত কিভাবে রাখবেন । অথচ হাতের ব্যবহার ক’রে আপনি আপনার বক্তব্য আরো শাক্তিশালী
করতে পারেন । –শরীরের
হাব–ভাব দিয়ে সঠিক ব্যবহার করে একটি সফল ব্যক্তিত্ব তৈরী করুন যেমন– v প্রায়ই
আমরা কথাবার্তার সময় নিজে হাত দুটো আপোস এক সাথে জুড়ে দেন–এতে নিজের অধিক
আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দিয়ে থাকেন । v কিন্ত Interview
–এর এরকম করা ভাল হবে না । ভাল হবে কি প্রথম দিকে আপনি আপনার
হাত নিজের কোলে রাখুন পরে চেয়ারের হাতলের উপর রাখুন । |
|
স্বাক্ষাৎকারের সময় |
|
|
এটা করুন ü কথাবার্তার সময় স্বাভাবিক
ভাবে মাথা নাড়ুন এতে কথাবার্তা প্রভাবশালী হবে । ü চোখে চোখ রেখে কথা বলুন । ü আরাম করে বসুন, অস্বস্তি নিয়ে
নয় । ü কোমর বাঁকাবেন না । |
এটা করবেন না ü খুব বেশী শরীরকে নাড়াচাড়া করা
ভাল নয় । ü হাতের আংগুল মচকাবেন না । ü পা দিয়ে টেবিলের পায়ার অথবা
মাটির উপর কাপাবেন না ü কলমের ঢাকনা বারবার খুলবেন না
। |
|
Dress Code কাপড় কখন কি রমক পরবেন– কাপড়েরে নির্ধারণ এবং পরবার কায়দা আপনার ব্যক্তিত্বের
একটি গুরুত্বপুর্ণ অংশ । আপনি কোথায় হয়তো যাচ্ছেন অথবা আপনার সাথে কেউ দেখা করতে
আসলেন সেই সময় আপনার পরিধানের কাপড় কিছু বলার আগেই আপনার সম্বন্ধে কিছু পরিচয়
দিয়ে দেয় । আপনার
ব্যবসা, শিক্ষাদীক্ষা শুধু নয় আপনার বিচার এবং ভাব–ভংগিমা আপনার কাপড়ের মাধ্যমে বোঝা যায় । যদিও
কাপড় পরবার কায়দা অনেকটাই ফ্যাশন এবং সামাজিক রীতি নিয়মের মধ্যে বাঁধা আছে তবুও আপনার নির্বাচন একটি
মহত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । এটা আবশ্যক নয় কি আপনার কাপড় খুব দামী
হবে–হ্যাঁ, তবে কাপড় সুরুচিপূর্ণ নিশ্চয়ই হওয়া দরকার । |
|
|
Dress Code অফিসে কি রকম– ü আনুষ্ঠানিক
। গাঢ় অথবা হালকা রং–এর ব্যবহার
করুন, চকমকী রং–এর ব্যবহার করবেন না । ü আনুষ্ঠানিক
কাপড় পরুন । বেশী চকমকী নয় । পার্টিতে– ü সকালের
জমায়েত বা দুপুরের মিটিং–এ ü হালকা
রং এর কাপড় পরুন ü
ü কম
গয়না ব্যবহার করুন রাত্রের পার্টিতে– ü গাড়
রং–এর ব্যবহার করুন ü ভালভাবে
সেজেগুজে যান ü যে
রকম ভাল লাগে গহনা পরুন |
|
ü ফ্যাশনের দৌড়ের সময় এ কথাটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ যে
আপনার উচ্চতা, সৌন্দর্য্য, রং ইত্যাদি অনুসারে কাপড় পরা দরকার । ü কাপড় ঋতু এবং সময় অনুসারে হওয়া দরকার (যেমন দেশ–.সে
রকম বেশ) । ü কাপড় সর্বদা আমারপ্রদ হওয়া দরকার । ü কাপড় তৈরী হওয়ার পর নিজের ভাল লাগা শুধু নয় একজন আলোচক
হিসাবে নিজেকে সুম্পূর্ণ–আকার আয়নার সামনে দেখুন । ü আপনার কাপড়ে আপনার আলাদা পরিচয় তৈরী করুন । ü নিজের চুলের সৌন্দর্য্যের দিকেও বিশেষ নজর দিন । ü সবসময় নিজের কাপড় এবং চুলের দেখরেখ করবেন না । ü জুতা সবসময় আরামপ্রদ হওয়া দরকার । সুন্দর এবং পরিস্কার
রাখুন যখনই কারোর সাথে দেখা করবেন জানবেন তার নজর আপনার জুতা পর্য্যন্ত যায় ।
বাইরের রুপে দেখেই ব্যক্তির সম্বন্ধে অনেককিছু জানা যায় । |
|
|
আল্লাহ্র
দেওয়া সৌন্দর্য্যকে ভাল বানাবার জন্য কিছু অন্য সংসাধন ও সাহায্য করে ü মেক্আপ মুখের প্রয়োজন অনুসারে হওয়া উচিত, এটা আলাদা
নজর আসা উচিত নয় । ü চশমার পছন্দ খুব চিন্তা করে করা দরকার । ü ভাল গন্ধ শুধু আশপাশের আবহাওয়া ছাড়াও লোকের মনকে
আকর্ষণ করে, এজন্য হালকা গন্ধে শরীরকে সুগন্ধিত করুন । ü নিজের রুমাল সবসময় সাথে রাখুন, পরিস্কার রাখুন এবং
সুগন্ধিত রাখুন । ü টাকার ব্যাগ, পাউচ অথবা হ্যান্ডব্যাগ নিজের প্রয়োজনীয়
জিনিষ, যেমন–টাকা পয়সা(খুচরা সমেত) মাউথ ফ্রেশনার, টিস্যু পেপার, নেপকিন,
ক্রেডিট কার্ড, আইডেনটিটি কার্ড, ব্লাড গ্রুপ কার্ড, ডায়রী, পেন, নিজের দু–একজন
অতিপরিচিতের ঠিকানা লিখে রাখুন এবং ফোন ।
|
|
|
ধৈর্য্য এক
ব্যক্তি কোন একজন কামারের দোকানের সামনে দিয় যাচ্ছিলেন । নিহাই–এর হাতুড়ি পড়ার
আওয়াজ শুনে ভিতরে উকি দিয়ে দেখল । ও দেখল কি এক কোণে অনেকগুলো হাতুড়ি–ভাঙ্গা
অবস্হায় পড়ে আছে । ব্যক্তিটি
কামারকে জিজ্ঞাসা করল এগুলো হাতুড়ির এই অবস্হা হওয়ার জন্য নিশ্চয়ই অনেকগুলো
নিহাইও ভেঙ্গেছে ? কামার
হাসতে লাগল । বলল, একটাও ভাঙ্গেনি । লোকটি আশ্চার্য্যচকিত হল–বলল, এটা কি সম্ভব
? কামার উত্তরে বললো, একটা নিহাই একশো হাতুড়িকে ভেঙ্গে ফেলে কারণ হাতুড়িকে আঘাত
করতে হয় আর নিহাই সেই আঘাত সহ্য করে । জীবন
যুদ্ধে সেই জিততে পারে যে ধৈর্য্যের সাথে সব আঘাত সহ্য করতে পারে । |
|
|
কিভাবে ফোনে কথা বলবেন |
|||
|
Do (করবেন) ·
আমি –––– বলছি । ·
আমি কি সুরেশের
সাথে কথা বলতে পারি ? ·
দয়া করে ওকে আমার
সাথে কথা বলতে বলনে । ·
ধন্যবাদ । |
Don’t (করবেন না) ·
হ্যাঁ, কে বলছেন
? ·
সুরেশ আছে কি ? ·
ওকে বলবেন আমাকে
ফোন করতে । ·
রাখি ?
রাখলাম––––– |
||
|
|||
|
Please, Sorry, Thank you, Excuse
me ইত্যাদি শব্দের প্রয়োগ করুন । কাসি কিংবা হাঁচির পর –Excise me বলা ভাল । |
|||
|
কথা বলার
আন্দাজ (Communication
Skill) কথা বলার কৌশলের জন্যই মানুষের স্হান এই পৃথিবীতে
সর্বোপরি, কারণ নিজের মনের ভাবকে ব্যক্ত করার শক্তি তার কাছে আছে । আজ মানুষের
মিছিলে সেইজন জিতে পারছে যার কাছে কথা বলার সুন্দর কলা আছে । যদি আপনি একজন
আকর্ষক, প্রভাবী, সকলের প্রিয় মানুষ হতে চান তো আপনার কথা বলার আন্দাজ
প্রভাবশালী হতে হবে । এমন কথা বলুন, অন্যকে শান্ত করে, নিজেও শান্তি পান । বলার সময় মনে রাখবার মতো কিছু উচিৎ বিন্দু– ·
খুব জোরে কথা বলবেন না–এটা শুনতে ভাল লাগে না এবং এত আস্তেও বলবেন না
যাতে সামনের ব্যক্তি আপনার কথা শুনতে না পান । খুব তাড়াতাড়ি কথা বলবেন না । ·
এরকম স্বরে বলবেন
না । ভাবনা অনুসারে স্বরের ও শব্দের ভারসাম্য থাকা দরকার তদনুসারে উচু–নীচু হওয়া
দরকার । |
|
||
|
·
যেমন লেখবার সময়
আমরা কমা, ফুলস্টপ ইত্যাদির ব্যবহার করি তেমনি কথা বলার সময় কোথাও কোথাও একটু
থামতে (Pause) হবে, কথার গতিরোধের জন্য । ·
আপনার উচ্চারণ
স্পষ্ট হওয়া দরকার, প্রতিটি শব্দ পরিস্কার বুঝা আবশ্যক । ·
অল্প কথায়
স্পষ্টভাবে কথা বুঝিয়ে বলুন । ·
কথায় কথায় লোককে
ছোট করে কথা বলা কেউ পছন্দ করেন না । এর জন্য শব্দের ব্যবহার করবেন না যার
দ্বারা লোকে মনে কষ্ট পাবে । ·
নিজের প্রশংসা
করে কথা বলা যেমন ’আমি এ রকম করি’ বা ’আমি করেছি’ বা ’আমি তো আগেই বলেছিলাম’
ইত্যাদি শব্দের ব্যবহার করবেন না । |
|
|
কথা বলার বিশেষ
কৌশল ·
এমন শব্দের
ব্যবহার করুন যা সামনের ব্যক্তি বুঝতে পারে । ·
সবসময় বিষয়ের উপর
কেন্দ্রিত করে কথা বলুন (To the point) । ·
আপনার সব বিষয়ে
কথা বলা দরকার তার জন্য আপনার আজকের খবরা–খবর জানা দরকার । এর জন্য প্রতিদিন
নিয়ম করে সংবাদপত্র এবং সংবাদ চ্যানেল এর সম্পর্কে থাকুন । ·
কিছুটা সময়
শান্তভাবে ধ্যানমগ্ন থাকুন । একাগ্রতার আপনার বাক্পটুতা এবং নিজের জ্ঞান
বাড়াবার ক্ষমতা বাড়বে । ·
কোন বিশেষ বিষয়ের
সম্বন্ধে বলতে হলে আগে থেকে ঐ বিষয়ের সন্বন্ধে ভাল করে জেনে নিন । আয়নার সামনে
দাঁড়িয়ে কথা বলা অভ্যাস করলে নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং ভাব–ভংগিমা ভাল হয়ে
যাবে । |
|
||
|
সংসার
নিজেরই প্রতিবিম্ব একজন অপরিচিত ব্যক্তি একটি গ্রামে এসে পৌঁছাল ।
গ্রামের বাইরে একজন বৃদ্ধকে জিজ্ঞাসা করল, এই গ্রামের লোকেরা কি রকম ? বৃদ্ধ
ব্যক্তি কোন কিছু বলার আগে আগন্তককে জিজ্ঞাসা করল, আগে তুমি বল তুমি কোন গ্রামে
থাকো এবং ওখানকার লোকেরা কি রকম ? আগন্তক ব্যক্তি ভীষণ রেগে গেল এবং বলল, ’ভীষণ
খারাপ এবং স্বার্থপরায়ণ ।’ আমার সব সমস্যার কারণ হল ঐ গ্রাম । বৃদ্ধ ব্যক্তি
খানিকক্ষণ চুপ থেকে বলল, এ গ্রামটাও ঐ রকম, এখানকার লোক তোমার গ্রাম থেকেও অধিক
খারাপ । আগন্তক ব্যক্তি নিরাশ হ’য়ে ফিরে গেল । ঠিক
কিছু সময় প’রে অন্য একজন ঐ বৃদ্ধের কাছে পৌঁছাল এবং জিজ্ঞাসা করল, এ গ্রামের লোক
কি রকম ? বৃদ্ধ জিজ্ঞাসা করল তুমি যেখান থেকে আসছো ওখানকার লোকেরা কি রকম ? প্রশ্ন শুনে লোকটি নিজের গ্রামের কথা চিন্তা করতে করতে
বিভোর হয়ে গেল । চোখের কোণে জল এসে গেল –বলল, আমার গ্রামের লোকেরা সহৃদয় এবং খুব
ভাল । আমার সমস্ত খুশির কারণ হল আমার গ্রাম । আফসোস আমাকে যদি ঐ গ্রাম ছাড়তে না
হত । বৃদ্ধ
হাসতে হাসতে বলল, এখানকার লোকেরাও অত্যন্ত দয়ালু, তুমি তোমার গ্রামের লোকেদের
থেকে কিছু কম মনে হবে না । ঐ লোকটির প্রস্হানের পর বৃদ্ধের পাশে বসা অন্য
একজন যুবক বৃদ্ধকে জিজ্ঞাসা করল, আশ্চার্য্য, আপনি একই গ্রামের জন্য দু–রকম
আলাদা আলাদা বিচার ব্যক্ত কেন করলেন ? বৃদ্ধ হাসতে হাসতে বলল, ’যে যেরকম সে অপরকে সেই রকম দেখে । যদি তুমি চাও যে তুমি সকলের ভালবাসা এবং স্নেহ পাবে । তবে
তোমাকেও নিজেকে বদলাতে হবে এবং সেই রকম হতে হবে’ । সংসার তোমারই প্রতিবিম্ব । |
|||
|
শ্রবণের
কৌশল একজন
প্রকৃত ভাল লোক হতে গেলে শোনবার কলা অত্যন্ত প্রয়োজন । ·
যাই শুনছেন খুব
মনোযোগ দিয়ে শুনুন । আপনি হয়ত লক্ষ্য করেছেন, বারবার মনে রাখার চেষ্টা করেও
বাচ্ছারা পাঠ্যপুস্তকের কবিতা মনে রাখতে পারে না কিন্ত দুরে বাজছে হিন্দী গান
এক–দুবার শোনাবার পর তাদের মনে থেকে যায় । কখনও ভেবেছেন এরকম কেন হয় ? কারণ
প্রথমটি বাধ্যতামুলক এবং দ্বিতীয়টি আনন্দদায়ক অবস্হার ছবি । অতএব মনকে আনন্দিত
রাখুন, প্রফুল্ল হয়ে কোন কথা শুনলে আপনার ঠিক মনে থাকবে । ·
শোনবার ধৈর্য্য
না থাকার জন্য সামনের ব্যক্তি বলবার সুযোগ পায় না, যে কারণে আমাদের বন্ধু হতে
পারে না । এই কলা বা জ্ঞানের অভাবের কারণ সামনের মানুষটিকে আমরা ভালভাবে জানতে
পারি না এবং নিজেদের জন্য ভাল এবং সঠিক বন্ধুর নির্বাচন করতে পারি না । ·
বাচ্ছাদের
’কানাকানির’ কথা তো আপনি শুনেছেন, ঠিকমতন না শোনবার জন্য কথার স্বরুপের কি রকম
পরিবর্তন হয়ে খারাপ হয়ে যায় । ·
’কান পাতাল’ ভাল
স্বভাব নয়, এই প্রবাদ বোঝাতে চাইছে যে শোনা কথার উপর কোন প্রতিক্রিয়া, তৎক্ষণাৎ
দেওয়া উচিত নয় । প্রথমে শুনুন, বুঝুন, চিন্তা করে বলুন তাহলেই আপনার বলার
স্বার্থকতা থাকবে । ·
নিত্যনৈমিত্তিক কথাবার্তা ছাড়া
অন্য জ্ঞানবর্দ্ধক, মনোরন্জক কথাবার্তাও শোনা দরকার । ·
ভাল সংগীত মনকে শান্তি দেয়,
প্রার্থনা কর্তব্যপরায়ণ করে, ভজন মনকে আত্মীক শান্তি প্রদান করে । এসব নিজের মন
যখন চাইবে তখন শোনা উচিত । |
|||
|
প্রেরণাদায়ক,
সাকাত্মক চিন্তাধারার বিচার শোনা বা পড়া রোজকার কাজকর্মের মধ্যে সামিল করা উচিত । যেমন–শীরের জন্য ভাল খাবার
এবং সুন্দর কাপড়েরর দরকার । একই প্রকারে মনের জন্য শ্রেষ্ঠ বিচার মনকে সুস্হ ও
সুন্দর তৈরী করে । |
|||
|
কি কি পড়বেন–কিভাবে পড়বেন ·
সংবাদপত্র নিয়মিত পড়ুন । রাষ্ট্রীয়
স্তরের সংবাদপত্রের সাথে সাথে স্হানীয় সংবাদপত্রও নিয়মিত পড়ুন । মাসিক, পাক্ষিক
পত্রিকা আমাদের জ্ঞানকে বাড়াতে সাহায্য করে । এগুলি অবশ্যই পড়া
উচিত । নিজের পছন্দ অনুযায়ী ধার্মিক, আধ্যাত্মিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও খেলাধুলার
পত্রিকা পড়া উচিত । ·
পড়বার সময় কাগজ–পেনসিল নিয়ে বসুন ।
ভাল কথা লিখে রাখুন । নিজের ডাইরিতে কিছু ভাল শব্দ এবং বাক্যের উদাহরণ লিপিবদ্ধ
করে রাখুন । ·
ভাল লেখার কাটিং অথবা জেরক্স করে
ফাইলে রাখুন । ·
|
বই বলে– পুরানো দিনের কথা বিশ্বের কথা মানুষের কথা আজকের মানুষের কথা আজকের কালকের কথা এক এক মুহুর্তের খুশি এবং দুঃখের কথা, তুমি কি এই সংসারে প্রবেশ করতে চাও না ? তুমি বই এর এ সমস্ত কথা শুনতে চাও না ? বই কিছু বলতে চায়– তোমার পাশে থাকতে চায়।। (সফদর হাসেমীর সংকলন থেকে) |
||
|
লেখা ·
নিজের বিচারধারা লেখবার অভ্যেস
করুন । আজকের যে বিচার ছোট বা অতি সাধারণ মনে হচ্ছে কালকে এই বিচার আপনার জন্য
বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে । ·
সব কাজের একটা ফর্দ লিখে বানান,
এতে কাজ করতে সুবিধা হবে, চিন্তায় অযথা সময় নষ্ট হয় না এবং কোন কাজ অসম্পূর্ণ
থাকবে না । ·
ভাল ভাল শোনা কথা বা পড়ার বস্ত
নিজের কাছে লিখে রাখুন । ভাল বইয়ের প্রস্তাবনা, নাম এবং লেখকের নাম লিখে রাখুন । ·
নিয়মিত চিঠি লিখলে অথবা সময় সময়
চিঠি দিলে নিজের পরিবার এবং বন্ধুত্বের সীমা বাড়বে এবং আপনি লোক প্রিয় হতে
পারবেন । ·
লিখিতরুপে কোন শুভকানা বা সমবেদনা
কাউকে জানালে তা আরো প্রভাবশালী হবে এবং মনের মধ্যে সদৈব থাকবে । ·
হাতের লেখা সুন্দর ও পরিস্কার
বানাবার জন্য সব সময় চেষ্টা করা দরকার । হাতের লেখা আপনার ব্যক্তিত্বের আয়না–এটা
জানবেন । |
|
|
ভোজন করার সদ্গুন
·
খাবার ততটাই নিন যতটা আপনি খেতে
পারেন । খাবার নষ্ট করা অসভ্যতার উদাহরণ । ·
খেতে খেতে অথবা পরে ঢেঁকুর তুলবেন
না । ·
খাবার খাওয়ার সময় মুখ বন্ধ করে
খাওয়া উচিত । যাতে করে খাবার খাওয়ার আওয়াজ না আসে বা হয় । ·
খাবার খুব তারাতাড়ি অথবা ধীরে করা
উচিৎ নয়, মধ্যগতিতে খাবার খাওয়া উচিৎ । ·
খাবার খেতে খেতে কথা বলা উচিৎ নয় । ·
খাবার পর্ব শেষ হলে সবার সামনে
দাঁত খোঁচান ভাল নয় । যতটা সম্ভব একলা অথবা বাথরুমে Tooth
Pick –এর সাহায্যে
দাঁত পরিস্কার করা উচিৎ । খাবার টেবিলে বসবার সময়ে কিছু ধ্যানযোগ্য কথা– |
|
|
খাবার টেবিলে বসবার সময়ে
কিছু ধ্যানযোগ্য কথা– §
সোজা হয়ে বসুন, হাত টেবিলে থেকে
আলাদা রাখুন–টেবিলের উপর কখনও রাখবেন না । §
খাবার
সময় যথা সম্ভব কম কথা বলুন, যদি বলা আবশ্যক হয় তবে মুখের খাবার সম্পূর্ণ করে নিন
। §
খাবার জিনিষের স্বাদ না অনুভব করে
তারমধ্যে নুন অথবা লংকা মেলাবেন না । §
গরম জিনিষ একবারে মুখের মধ্যে
দেবেন না, খাবার আগে একটু ঠান্ডা করে খান । §
যদি খাবারের মধ্যে এমন কোন জিনিষ
থাকে যা–কাঁটা বা ছুড়ির সাহায্যে খেতে হয় তবে এরকম জিনিষ ছোট ছোট টুকরো করে
কাঁটার সাহায্যে খান । §
যদি আপনাকে ব্রেডের উপর মাখন
লাগাতে হয় তবে খানিকটা মাখন কেটে নিজের প্লেটের উপর রাখুন । তারপর আস্তে আস্তে
ছুরির সাহায্যে ব্রেডের উপর লাগান । |
|
|
কটলারীর ব্যবহার কি করে
করবেন এক সময় এমন ছিল মানুষ ভোজন
শুধুমাত্র তার স্বাদ এবং খিদে মেটাবার জন্য করত, কিন্তু আজকের ব্যবসায়িক এবং
সামাজিক ব্যবস্হায় বডো–বড়ো বিজনেস অনুবন্ধ খাবার টেবিলে অথবা সান্ধ্য ভোজনের সময়
হয়ে থাকে । এ সময় যদি আপনার রীতি–রেওয়াজের (Etiquettes)
সম্বন্ধে না জেনে থাকেন তাহলে এটা লজ্জার ব্যাপার হয়ে যাবে । অতএব খাবারের সময়
খেয়াল রাখবার এবং করবার কায়দা–কানুন–এর তালিকা দেওয়া হয় । খাবার–এর সময় উপযোগে
আসা কটলারীর এইভাবে ব্যবহার করুন । §
কাঁটা
এবং চামচ ব্যবহারের সময় কাঁটা বাঁ–হাতে এবং চামচ ডান–হাতে রাখুন । একইভাবে ছুরি এবং কাঁটার ব্যবহারের সময় ছুরি ডান–হাতে
এবং কাঁটা বাঁ–হাতে ধরুন । §
ছুরি সাধারণত আংগুলের মধ্যে রেখে
ধরতে হয় । §
খাবারের সময় শুধুমাত্র অতটুকু অংশই
কাঁটার দরকার যতটা আপনার মুখে রাখতে পারবেন, সব খাবার একসাথে কাঁটার দরকার নেই । |
|
|
কটলারীর ব্যবহার কি করে করবে–––––– §
এটা অবশ্যই মনে রাখবেন যেন কটলারীর
জিনিষ নিজেদের মধ্যে ধাক্কা লেগে আওয়াজ না করে । §
কটলারীর জিনিষ খাবার সময় হাওয়াতে
দোলাবেন না । §
একবার যদি আপনি কটলারীর জিনিষ হাতে
উঠিয়ে নেন তাহলে ভোজন সমাপ্ত হবার আগে এগুলো টেবিলে অথবা প্লেটের উপর ফেরৎ
পাঠাবেন না । §
ব্যবহার করা চামচ সবসময় ডানদিকে
এবং কাঁটা সবসময় প্লেটের বাঁ–দিকে ভালভাবে রাখবেন । Formal Meals আনুষ্ঠানিক
খাবারের সময় ধ্যানযোগ্য বিষয় যখনি কোন Official
Meeting অথবা Business deal–এর সময় হোটেলে
খাবার খেতে যেতে হয়, ঐ সময়ে মনে রাখার মতন খাবার নিয়ামাবলী নীচে আপনার জন্য
দেওয়া হল । § আনুষ্ঠানিক
খাবার এর–সময় ঐ স্হানে বসুন যেখানে আপনার নামের কার্ড লাগানো আছে । §
যদি ঐ সময়ে অপরিচিত ব্যক্তিদের
মধ্যে বসতে হয় তাহলে নিজের পরিচয় দিন । |
|
|
Formal Meals আনুষ্ঠানিক
খাবারের সময় ধ্যানযোগ্য বিষয়– §
যদি আপনি Buffet–তে
অংশগ্রহণ করছেন, তো খাবার নির্ধারিত লাইন অনুযায়ী গিয়ে সংগ্রহ করুন, ধাক্কাধাক্কি
করবেন না । §
যদি খাবারের কোন জিনিষ কম পড়ে থাকে
তবে বারবার ঐ জিনিষ চেয়ে আয়োজককে লজ্জা দেবেন না । §
যদি আপনি দাঁড়িয়ে খাবার খাচ্ছেন
তাহলে অল্পবিস্তর এদিক–ওদিক ঘুরে অন্য লোকদের সাথে দেখা করতে থাকুন । এহ সুযোগ
শুধুমাত্র খাবার–এর জন্য নয়–এর দ্বারা অন্য সবার সাথে মেলামেশা করতে পারবেন । |
|
|
প্রিয় মিত্র, এই
বই–এ অনেক কিছু আছে, কিন্তু সবকিছু এই বইয়ে নেই । এই বই আপনার ব্যবহার এবং
ব্যক্তিত্ব আরো প্রভাবশালী বানাবার দিকে অগ্রসর করবে–কিন্তু বিশেষ করে মনে
রাখবেন সবথেকে দামী–মূল্যান গুণ হল ’আপনার নিজের আত্মবিশ্বাস’ যা আপনার সফলতার
সঠিক পথ–প্রদর্শক । এই
বিষয়ে অনেক কিছু করবার আবশ্যকতা আছে–শুধ্রমাত্র কি– কর্ম
তোমার নিজের সম্বল হবে, শক্তি
ভিরর থেকে তোমার সাথে থাকবে, পথ
তোমার সাথে থাকবে, বন
তোমার সাথে থাকবে, শুধু
তুমি যদি নিজের সাথ দিতে পরো, সবাই
তোমার সাথে থাকবে । যদি
মানুষ হও তো উঠে দাঁড়াও, কিছু করে দেখাও ! শুভেচ্ছা
সহ আপনার
এম
এ জি |
|
যে ১০টি উক্তি বদলে দেবে তোমার জীবন
ভাল কথা, ভাল উপদেশ কখনো পুরনো হয় না। একটি ইতিবাচক
জিনিসের আবেদন রয়ে যায় চিরকাল।
ঘরের দেয়ালে একটি উক্তি টাঙানো, তুমি হয়তো দিনের পর দিন সেটি
দেখে আসছো কোনদিন কিছু মনে হয়নি, হঠাৎ একদিন কোন বিশেষ পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে বাণীটি একদম তোমার হৃদয়য় গেঁথে গেল। অবাক হয়ে ভাবলে, তাই তো! এতদিন কেন চোখে পড়েনি ব্যাপারটা?
এতদিন চোখে পড়েছে ঠিকই, কিন্তু হৃদয়ে
প্রবেশ করেনি । আজ সেটা করলো। একটি উক্তি
তোমার জীবন বদলে দিতে পারে চিরদিনের জন্য। জীবনের মোড় বদলে দেয়া এমন
দশটি উক্তি নিয়েই আজকের এই আয়োজন।
১। কিছু কিছু মানুষ সবসময়ই থাকে আমাদের
চারপাশে যারা কিভাবে কিভাবে যেন সবকিছুতেই ভয়াবহ রকমের সফল! ক্লাসে পরীক্ষায়
প্রথম হচ্ছে,
দৌড় প্রতিযোগিতায় সবার আগে ফিনিশ লাইনে তারা, বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় তাদের প্রজেক্ট পুরস্কার জিতছে- তুমি নখ কামড়ে
ভাবছো একটা মানুষের সবদিকে এত প্রতিভার ছড়াছড়ি কীভাবে হয়? আমাদের আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী আন্টিরা আবার এককাঠি
সরেস-“ও যেই চালের ভাত খায়, তুমিও সেই
চালের ভাত খাও, ও পারলে তুমি পারো না ক্যান?”
২। একটা ঈগল ছানা কিভাবে যেন দলছাড়া হয়ে
মুরগির খোঁয়াড়ে পড়ে গেল। সেখানে একটি মুরগির বড় দয়া হলো বেচারার দুরবস্থা দেখে, আপন
সন্তানের মত দরদ দিয়ে লালন-পালন করে বড় করে তুললো সেটিকে। ঈগলটি এখন একটু বড় হয়েছে,
গায়ে গতরে তার চারপাশের মুরগিদের চেয়ে ঢের বড় সে। কিন্তু, চলাফেরায় স্বভাবে একদম মুরগিদের মতোই। তাদের সাথেই থাকে, তাদের সাথেই ঘুমায়, তাদের মতোই ভীতু সে।
“কী বোকার মত কথা বলছো! আমরা কীভাবে উড়বো? ওটা তো ঈগল পাখি, ওভাবে উড়া আমাদের জন্য অসম্ভব!”
ছোট্ট
ঈগলটি একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে পালের সাথে হাঁটতে লাগলো। বেচারা কোনদিন বুঝলোও না
তারও রাজার মতো আকাশে উড়বার
কথা ছিল।
একবার
ভেবে দেখো তো নিজেকে এই ঈগলটির জায়গায় কল্পনা করে?
৩। “অমুক
তো ভাই অনেক মেধাবী! তার সাথে কি আমাদের তুলনা চলে?”এই কথাটি
যে কত যায়গায় কতবার শুনেছি হিসেব
নেই। এই কথাটি শুনলে কেন যেন আমার ভীষণ রাগ হয়, ব্যাপারটা অনেকটা খেলতে নামার আগেই পরাজয় মেনে নেওয়ার মতো। অমুক খুব
ট্যালেন্টেড বুঝলাম, কিন্তু আমার চেয়ে কতগুণ মেধাবী সে? আমি যদি
প্রতিদিন তার থেকে ডাবল খাটুনি করি কেন আমি তার চেয়ে ভাল করবো না?
এখন জীবন হবে আরও সুন্দর!
জীবনে শুধু পড়শুনা করলেই হয় না। এর সাথে প্রয়োজন এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি। আর তার সাথে যদি থাকে কিছু মোটিভেশনাল কথা, তাহলে জীবনে চলার পথ হয়ে ওঠে আরও সুন্দর।
আর তাই তোমাদের জন্যে আমাদের নতুন এই প্লে-লিস্টটি!
৪। একটু হিসেব করে দেখো
তো আজকে সারাদিনে কীভাবে কেটেছে তোমার? হয়তো ক্লাসে গিয়েছো, বন্ধুদের
সাথে আড্ডা দিয়েছো, ঘুরাঘুরি
খাওয়া-দাওয়া ইত্যাদি। আচ্ছা এবার অন্যকিছু ভাবা যাক। আচ্ছা বলো তো, তোমার
কী কী শখ আছে? জীবনে বড় হয়ে কী হওয়ার ইচ্ছা?
আজকের
দিনটিতে হোক নতুন করে শুরু সবকিছুর।
৫। ক্লাসে প্রায়ই এমনটা হয়- একটা জিনিস
তুমি বুঝোনি,
এবং মনে হচ্ছে তুমি একাই এই দলে, বাকি সবাই
জিনিসটা বুঝেছে তাই জিজ্ঞেস করারও সাহস পাচ্ছো না- পাছে মানুষ হাসাহাসি করে! এটা
যে কতবড় বোকামি তুমি কি বুঝতে পারছো? আজকে তোমাকে নিয়ে হয়তো সবাই হাসাহাসি করলো, দুইদিন পর কি ব্যাপারটা কেউ
মনে রাখবে? অথচ জিজ্ঞেস করে বুঝে নেওয়ার পর জিনিসটা কিন্তু
সারাজীবনের জন্য শিখে ফেলছো তুমি! সুতরাং আর নয় বোকামি, প্রশ্ন করতে শেখো, জানতে
শেখো। না জানায় কোন লজ্জা নেই, কিন্তু
জানার চেষ্টা না করাটা বড় লজ্জার ব্যাপার।
|
HE WHO ASKS A QUESTION REMAINS
A FOOL FOR
FIVE MINUTES. HE WHO DOES NOT ASK REMAINS
A FOOL FOREVER. |
কেউ তোমার ছবি তুলে ফেসবুকে দিল সেটি
সাথেসাথে ভাইরাল হয়ে গেছে হাজার হাজার লাইক
উঠছে সবাই আহারে টাইপ কমেন্ট করছে- যতক্ষণ না কেউ এসে তোমাকে রাস্তা থেকে তুলে
হাসপাতালে নিচ্ছে এত হাজার হাজার মানুষের সহানুভূতিতে তোমার পাযয়ের যন্ত্রণা কি
এতটুকু কমেছে?
তুমি কী ভাবছো সেটা বিষয় না, যতক্ষণ না মাঠে নেমে সেটিকে সত্যি করছো এই ভাবাভাবির
কোন মূল্য নেই।
৭। একটি প্রতিযোগিতামূলক
কাজ যদি সহজ হয় তাতে বিশেষ আগ্রহের কিছু নেই। কাজটি যত কঠিন আনন্দ তত বেশি- কারণ, খাটুনি
সইতে না পেরে কিছুক্ষণ পরই একটু একটু করে মানুষজন হাল ছেড়ে দিতে শুরু করবে। কয়জন
থাকবে নাছোড়বান্দা তারা দাঁত কামড়ে পড়ে থাকবে জিনিসটি নিয়ে, এবং দেখা যাবে আস্তে আস্তে তারা বাদে বাকি সবাই ঝরে গেছে! এভারেস্টের
চূড়ায় এজন্যই সবাই পৌঁছাতে পারে না, বারবার আছাড়-পিছাড়
খেয়েও কিছু মানুষ ঝুলে থাকে, শেষ পর্যন্ত বিজয় নিশান তারাই
উড়িয়ে দেয়।
সাফল্যের
দুইটা না তিনটা না, একটামাত্র উপায়। সেটা হচ্ছে লেগে থাকা, কামড়ে ধরে থাকা, ঝুলে থাকা।
|
“Success
is going from failure to failure with no loss of enthusiasm.” ~Winston
Churchill |
|
“Buld
your own dreams, or someone else will you’re your to build theirs.” ~Farrah
Gray |
৯। একটি মজার
ব্যাপার কি জানো, ভর্তি পরীক্ষায় যারা আজ আশানুরূপ জায়গায় টিকতে না পেরে
মাথা কুটে মরছে- দশ বছর কিন্তু তাদের একটুও দুঃখ থাকবে না বিষয়টি নিয়ে । পরীক্ষায় রেজাল্ট ভয়াবহ খারাপ হয়েছে, ভালোবাসার
মানুষটি তোমাকে ছেড়ে চলে গেছে-
তুমি ঘর অন্ধকার করে শুয়ে আছো, বুকের
ভেতর ছুরি দিয়ে চিরে ফেলার মত একটা
যন্ত্রণা হচ্ছে- পাঁচ বছর পর এই যন্ত্রণাটির কথা তোমার মনে থাকবে না।
|
“In
three words I can
sum up everything I’ve
learned about life: IT
GOES ON. ~Robert
Frost |
১০। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর জিনিসটি হচ্ছে স্বপ্ন দেখতে জানা। মুক্তিযুদ্ধে হাজার হাজার
আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত প্রশিক্ষিত হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সেকেলে অস্ত্র নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা লড়ছিলো যেখানে জয়ের সম্ভাবনা বলতে গেলে ছিল না। কিন্তু, আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের
একটি স্বপ্ন ছিলো সেটি হচ্ছে দেশ শত্রুমুক্ত হবে বিজয়ের নিশান উড়বেই। এই
স্বপ্নটিকে সম্বল করে তারা কিভাবে কিভাবে এত বড় ভয়াবহ হানাদার বাহিনীকে হটিয়ে দিল সেটি
অসম্ভব গৌরবের একটি অধ্যায়।
দেখিয়ে দাও, তুমিও পারো
তুমিই পারবে। তুমিও জিতবে। হাল ছেড়োনা, লেগে থাকো। 'দেখিয়ে দাও' যে তুমিও পারো।
এগুলোই হলো বর্তমান সময়ের সব ধরণের সো-কলড মোটিভেশনাল বই-পুস্তক-প্রবন্ধ-লেকচারের মূল কথা। শিব খেরা থেকে শুরু করেন ব্যমোটিভেশানিস্ট, যারাই অন্য কাউকে মোটিভেশন দিতে চান, দিন শেষে এই সব কথাই হয়ে দাঁড়ায় তাদের বক্তব্যের সারমর্ম।
এই সব তথাকথিত মোটিভেশন আমাদের তরুণ প্রজন্মের ভেতর সত্যিকার কোন স্পিরিট তো দিচ্ছেইনা, বরং হতাশাই বাড়াচ্ছে । কারণ, প্রচলিত মোটিভেশন মূলক কথাবার্তাগুলোতে দুটি মৌলিক ও গুরুতর সমস্যা আছে । একটা হচ্ছে, সাফল্যের সংজ্ঞাটা এখানে কেবলই টাকার অংকে নির্ধারণ করা হয়েছে । আর এই ভুল মানদন্ডে 'সফল' হবার জন্য সবাইকে 'উস্কানি'
দেয়া হচ্ছে । অসুস্থপ্রতিযোগিতায় নামিয়ে দেয়া হচ্ছে । অবাস্তব স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে । যার ফলে বেশিরভাগ তরুণই একটা সময় গিয়ে হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছে।
মোটিভেশনাল বই পড়ে, বক্তব্য শুনে কেউ কোনদিন সফল হয়নি, হয়না । বাস্তবতা হচ্ছে, চাইলেই সবাই 'সফল' হতে পারেনা । চাইলেই সবাই জয়ী হতে পারেনা । প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস, মন থেকে চাওয়া, লেগে থাকা, কঠোর পরিশ্রম, কেবল এগুলোই সাফল্যের একমাত্র নির্ণায়ক নয় । পরিশ্রম করলেই সবাই ধনী হয় না, লেগে থাকলেই সবাই টপে ওঠেনা, পড়ালেখা করলেই সবাই ভালো চাকরি পায়না।
ব্যবসা করলেই সবাই ফুলেফেপে ওঠেনা, রাজনীতি করলেই সবাই প্রেসিডেন্ট হয়না, লিখলেই সবাই জনপ্রিয়তা কিংবা নোবেল প্রাইজ পায়না।
আপনি একটা ক্লাসের সব ছাত্রকে মোটিভেশন দিলেন- তুমিই ফার্স্ট হতে পারবে । তোমাকেই ফার্স্ট হতে হবে । পড়ো পড়ো পড়ো!! You Can
Win!!
অথচ বাস্তবতা হলো, মাত্র একজনই ফার্স্ট হবে । আর কেউ ফার্স্ট হতে পারবে না । আপনি যদি শুধু ফার্স্ট হওয়াকেই সাফল্য বলেন, তাহলে কি বাকি সবাইব্যর্থ!! আপনার এই মোটিভেশন দিন শেষে বেশিরভাগ ছাত্রের মনেই হতাশা ছড়াবে।
ভালো চাকরি করা, ব্যবসা করে অনেক টাকা কামানো, কেবল এগুলোকেই এখন সফলতা হিসেবে তুলে আনা হচ্ছে। আলীবাবা, মার্কজুকারবার্গ,
স্যামসনএইচ, এদেরকেই এখন সাফল্যের আইকন হিসেবে তরুণ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে । যে কোন ভাবেই হোক, অগুণতি টাকা উপার্জন করতে পারাটাই যেন 'সাফল্য'।
কিন্তু আসলে কি সবারই ধনী হওয়া সম্ভব ? ব্যবসায়কি সবাই তরতর করে ওপরে উঠতে পারবে ? সবাই কি উচ্চ বেতনের চাকরি পাবে?
তার মানে কিএই যে, ঐ গুটিকয়েক জন মানুষ ছাড়া বাকি সবাই অসফল ? ব্যর্থ ? ক্লাসের ফার্স্ট বয়টাই শুধু সফল ? বাকিরা ব্যর্থ?
এই ধরণের ফালতু মোটিভেশন বন্ধ করা দরকার । এগুলো মোটেই মোটিভেশন না, সত্যিকার অর্থে এগুলো হলো চরম মাত্রার দীর্ঘ মেয়াদী ডিমোটিভেশন।
২। আসলে সফলতা কী?
আমি বলবো, ভালো মানুষ হওয়াটাই সাফল্য । সৎ মানুষ হওয়াটাই সাফল্য । বিনয়ী হওয়াটাই সাফল্য, ভালো ব্যবহার করতে জানাটাই সাফল্য।
নিজের সীমা ও সামর্থের মধ্যে সবচেয়ে ভালোটুকু করার পর, ফলাফল যাই হোক- সেটাই সাফল্য । সেটাকেই মেনে নেয়ার মোটিভেশান চালানো দরকার।
অন্যের দোকানে কাজ করে কেরোসিনের অভাবে পড়তে না পারা ছেলেটা যদি কোন মতে মেট্রিক পাশ করে- সেটাই সাফল্য । অক্ষম বা মায়ের একমাত্র অবলম্বন ছেলেটা যখন রিকশা চালিয়ে সংসারের জন্য উপার্জন করে- সেটাই সাফল্য । অনেক কষ্ট করে বিধবামায়ের যে ছেলেটা গ্রামের ডিগ্রী কলেজে ভর্তি হয়েছে- সেটাই তার সফলতা।
ছয় ডিজিটের স্যালারি, আর ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার,
বিসিএস, কর্পোরেট সিইও- এই সব হওয়াকেই যদি সাফল্যের মাপকাঠি ধরেন, তাহলে পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষকেই ব্যর্থ বলতে হয় । যে কৃষক বাবা তার ঘামের টাকায় ছেলে–মেয়েকে লেখা–পড়া করিয়েছেন, আপনার কি তাকে ব্যর্থ মনে হয়?
কেন সাফল্যের এই অবাস্তব সংজ্ঞা ফেরি করে বেড়াচ্ছেন ? কেন তরুণদের মিথ্যা স্বপ্ন দেখাচ্ছেন?
একজন মানুষের জন্য, ভালো মানুষ হওয়াটাই হলো সফলতা । কেউ যদি সৎ থাকে, মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করে, মানুষের ক্ষতিনা করে, পূর্ণ নিষ্ঠার সাথে তার নিজের দায়িত্ব টুকু পালন করে, আমার দৃষ্টিতে সে-ই সফল । সে যেই হোক । মুচি, রিকশাওয়ালা,
শ্রমিক, ব্যবসায়ী, অফিসের দারোয়ান, বাদাম বিক্রেতা গরীব ছেলেটা।
মোরওভার, একজন মুসলিমের কাছে সফলতার সংজ্ঞাটা আরো চমৎকার । পৃথিবীর জীবনের কোন লাভ, ক্ষতি, প্রাপ্তি বা অপ্রাপ্তিতে তাদের জীবনের সফলতা বা ব্যর্থতা নির্ধারিত হয় না । তাদের কাছে পৃথিবীর সবকিছুই আপাত । পরকালে পুরস্কৃত হওয়াটাই হলো একজন মুসলিমের জন্য সত্যিকার সফলতা।
|
Something
great is coming. Can
you feel? |
ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে তাঁরা প্রমাণ করে গেলেন স্বপ্ন দেখতে জানলে সত্যি সত্যি অসাধারণ
কিছু করে ফেলা সম্ভব। প্রতিদিন সকালে উঠে এই ব্যাপারটি মাথায় রেখো- হয়তো আজকেই খুব
চমৎকার একটি জিনিস ঘটতে পারে তোমার জীবনে, তুমি কি অনুভব করছো সেটি?
যে ৯ টি বই পালটে দিতে পারে আপনার চিন্তার জগত
-
ট্রেন্ডি হতাশার এই মৌসুমটাতে স্রোতে গা ভাসিয়ে নিজেকে হতাশ প্রমাণের চেষ্টায় ব্যস্ত না রাখাটাই সবচেয়ে বেশি বুদ্ধিমানের কাজ । হতাশা বিলাপের সময়টাতে প্রচুর পরিমাণে মোটিভেশনাল বই পড়ার মাধ্যমে এক দিকে যেমন হতাশার মতো ক্ষতিকর ব্যধি থেকে নিজেকে দূরে রাখা সম্ভব, তেমনি আত্নোন্নয়নের দ্বার উন্মোচন করাও সম্ভব । এখানে নয়টি মোটিভেশনাল বই সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বিবরণী দেওয়া হলঃ
১. The 7 Habits of Highly Effective People
ধর্মোপদেশ বানী ইত্যাদি উপদেশ বিস্তৃতি ভালবাসলেও Steven Covey’র জীবন সম্পর্কিত নির্দেশনা আপনাকে শুধু ভালো অভ্যাস বিকাশ ঘটাতেই সাহায্য করবেনা- একই সাথে এটাও বোঝানোর চেষ্টা করবে যে, এ সব অভ্যাসের অর্জনই পারে আপনাকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে।
শ্রেষ্ঠউদ্ধৃতি: “Sow a thought, reap an action; sow an action, reap a habit;
sow a habit, reap a character; sow a character, reap a destiny.”
যার অর্থ দাঁড়ায়- “একটি চিন্তার বীজ বপন করো, একে কাজে পরিণত করো; একটি কাজের বীজ বপন করো, একে অভ্যাসে পরিণত করো; একটি অভ্যাসের বীজ বপন করো, একে নিজের চরিত্রে রূপান্তর করো; চরিত্রের বীজ বপন করো, একে নিজের লক্ষ্য হিসেবে গড়ে তোলো।”
২। How to Win
Friends & Influence People
ডেল কার্নেগীর শ্রেষ্ঠ রচনাগুলোর পূর্বে, ব্যক্তিগত সম্পর্কের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্কের সংমিশ্রণ স্বজন প্রীতির মতোই মোটামুটি অনুচিত হিসেবে ধরা হতো । কার্নেগীর রচনাগুলোর পর, ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলোকে শুধুমাত্র সামঞ্জস্যপূর্ণই নয় বরং অবিচ্ছেদ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
শ্রেষ্ঠউদ্ধৃতিঃ
The
unvarnished truth is that almost all the people you meet feel themselves
superior to you in some way, and a sure way to their hearts is to let them
realize in some subtle way that you recognize their importance, and recognize
it sincerely.” যার অর্থ, “সবচেয়ে সহজ সত্য হল, জীবনে যত মানুষের সাথে আপনার সাক্ষাত হয় তাদের প্রায় সবাই কোননা কোনভাবে আপনার উপর কর্তৃত্বপরায়ণ বলে মনে হয়, এবং তাদের অন্তরের ক্ষেত্রে একটি সুনিশ্চিত পন্থা হল আপনি তাদের গুরুত্ব উপলব্ধি করুন এবং আন্তরিকতার সাথে তা অনুধাবন করুন।”
কী ধরণের সাধারণ চিন্তা প্রক্রিয়া এবং আচরণ মানুষের সফলতার নেতৃত্ব হিসেবে কাজ করে তা উদঘাটন করার জন্য Napoleon Hill (নেপোলিয়ন হিল) ৪০ জন লাখপতির সাক্ষাতকার নিয়ে ছিলেন । সর্বোত্তম কার্য্যাভ্যাসের উপর তাঁর গবেষণা সে সবক্ষেত্রে ছিল বিপ্লবী যেখানে মহামূল্যবান সম্পদকে
লাভ এবং ভাগ্যের সংমিশ্রণ হিসেবে ধরে নেওয়া হয়।
শ্রেষ্ঠউদ্ধৃতি:
“All the breaks you need in life wait within your imagination.
Imagination is the workshop of your mind, capable of turning mind energy into
accomplishment and wealth.”
অর্থাৎ,
“আপনার জীবনে যে সব নতুন সুযোগ বা পথের দরকার তার সবটুকুই আপনার কল্পনায় অপেক্ষমান । কল্পনা হল মনের কর্মক্ষেত্র যা মানসিক শক্তিকে নৈপুণ্য এবং সম্পদে রূপান্তর করতে সক্ষম।”
৪। Awaken the Giant
Within.
বেশিরভাগ অনুপ্রেরণাদায়ী লেখকদের সাথে Anthony Robbins এর পার্থক্য হল, প্রথমত: তিনি মন এবং শরীরের প্রশিক্ষণের বিষয়টি নৈতিক দায়িত্ববোধের চেয়ে প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ হিসেবেই বেশি দেখেন । দ্বিতীয়ত, কোননা কোনভাবে তিনি একই সাথে গ্রহের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ী মডেল এবং সবচেয়ে বিরক্তিকর ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে উপস্থাপনা করেন!
শ্রেষ্ঠউদ্ধৃতি: “If you cans’t, you must. If
you must, you can.” অর্থাৎ, “যদি আপনি অপারগ হন, তবে আপনাকে অবশ্যই করতে হবে; যদি আপনাকে অবশ্যই করতে হয়, তাহলে আপনি পারবেন।”
মোটিভেশনাল বইগুলো সাধারণত অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে আলোকপাত করে । কিন্তু ১৯০২ সালে, James Allen এর এই রচনাটি চিন্তাশীলতার প্রতিগুরুত্ব প্রদান করেছে । আপনাদের চিন্তা কিভাবে আপনাদের ব্যক্তিত্ব গঠন করে এবং সেই ব্যক্তিত্ব, কিভাবে ও কী ধরণের পদক্ষেপ আপনি গ্রহণ করবেন, সে দিকে পরিচালিত করে- এই রচনা সেই ব্যাখ্যাই করেছে।
শ্রেষ্ঠউদ্ধৃতি: “The
dreamers are the saviors of the world. As the visible world is sustained by the
invisible, so men, through all their trials and sins and sordid vocations, are
nourished by the beautiful visions of their solitary dreamers.”
অর্থাৎ, “স্বপ্নবাজরাই পৃথিবীর ত্রাণকর্তা । যেহেতু এই দৃশ্যমান পৃথিবী অদৃশ্যের
দ্বারাই টিকে আছে, তাই মানুষ তাদের যাবতীয় সকল পরীক্ষা, পাপ এবং নোংরামির মাঝেও নীরব স্বপ্ন দ্রষ্টাদের সুন্দর দৃষ্টি ভঙ্গির দ্বারা পুষ্ট হয়। ”
৬। The
Greatest Salesman in the World.
’বাইবেলের ভুল দৃষ্টান্ত আপনার নিজেকে এবং অন্যকে সাহায্য করার ব্যাপারে নিজের সক্ষমতার প্রতি বিশ্বাসস্থাপনের মাধ্যমে জীবনকে পরিপূর্ণভাবে উপভোগ করতে উদ্বুদ্ধ করে।
বিক্রেতাদের জন্য এটি অবশ্য পাঠ্য যেটা প্রায় সবার সাথে সম্পর্কিত।
শ্রেষ্ঠউদ্ধৃতি: “I will live this day
as if it is my last. This day is all I have and these hours are now my
eternity. I greet this sunrise with cries of joy as a prisoner who is reprieved
from death. I lift mine arms with thanks for this priceless gift of a
new day.”
অর্থাৎ “আজকের দিনটা আমি এমনভাবে বেচে থাকবো যেন এইটাই আমার শেষ দিন । এই দিনটাই এখন আমার সবকিছু এবং এই ঘন্টাগুলোই আমার অসীমতা । এই সূর্যোদয়কে আমি আনন্দের অশ্রুদিয়ে স্বাগত জানাই ঠিক সেই বন্দীর মতো যে মৃত্যুর আদেশ থেকে মুক্তি পেয়েছে । নতুন দিনের এই অমূল্য উপহারের জন্য আমি হাত তুলে ধন্যবাদ জানাই!”
৭। Don’t Sweat the Small Stuff:
অনুপ্রেরণার একটি বড় অংশ আপনার মনকে সেই সব গোলমাল থেকে জঞ্জাল মুক্ত করে যা মনকে নিচু করে দেয় । কোন বিষয় গুলো সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ এবং আপনার মনোযোগ-যোগ্য আর কোন গুলো সিস্টেমের মধ্যে গোলমাল- Richard Carlson আপনাকে সে সবের পার্থক্য করতে সাহায্য করে।
শ্রেষ্ঠউদ্ধৃতি: “Stress is
nothing more than a socially acceptable form of mental illness.” অর্থাৎ, “Stress সমাজস্বীকৃতমানসিকরোগছাড়াআরকিছুইনয়!”
জীবনকে চমকে দিতে চান? বদলে দিতে চান চেনা জগৎ? আত্ম উন্নয়নের সেরা বই সব একত্রে
৮। Drive:
অনুপ্রেরণা গাজর এবং লাঠির সুবিচারপূর্ণ ব্যবহার থেকে আসে, তাইনা ? আসলে তা নয়- এমনটাই বলেন লেখক Daniel Pink.অনুপ্রেরণা বিভিন্ন উৎস থেকে আসে এবং
কর্ম সাধনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুপ্রেরণা আসে আপনি কে এবং আপনি কি হতে চান – এ বিষয়ে আপনার গভীরতম এবং সবচেয়ে গভীর অনুভূতি থেকে, তার বই এই ব্যাপার গুলোই প্রকাশ করে।
শ্রেষ্ঠউদ্ধৃতি: “For artists, scientists, inventors,
schoolchildren, and the rest of us, intrinsic motivation–the drive to do
something because it is interesting, challenging, and absorbing-is essential
for high levels of creativity.”
অর্থাৎ “সৃজনশীলতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে শিল্পী, আবিষ্কারক, স্কুলশিক্ষার্থী এবং আমরা যারা আছি তাদের জন্য, কোন একটা কাজ মজাদার, চ্যালেঞ্জিং এবং চিত্তাকর্ষক বলে সেটি করার প্রতি আগ্রহ বা স্বকীয় অনুপ্রেরণা- অতীব জরুরী।”
Comments
Post a Comment